জয় এখনও অধরা মোহনবাগানের

bangla news Bengali news Sports sports news
মোহনবাগান— ২  আইজল— ২ 
(কিমা, সনি)   (পুই মাওয়াইয়া, ডেভিড)

মহানায়ক এলেন, দেখলেন আর জয় করে নিলেন। সনি নর্দে জিতলেও, তাঁর দল কিন্তু জিততে পারল না। শেষমেশ ড্র করে মাঠ ছাড়তে হল মোহনবাগানকে। দুটো ম্যাচে দুটোতেই ড্র শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের। অথচ ম্যাচটা তো প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন  সনি।

৬১ মিনিটে ওমর নাবিলের পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামেন হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ান। ৬৯ মিনিটেই ম্যাচটা মোহনবাগান ক্যাম্পে নিয়ে এলেন । তিনি মাঠে নামার আগে তো ম্যাচটা পেন্ডুলামের মতো দুলছিল দু’ প্রান্তে। গতি দিয়ে আইজলের রক্ষণ ভাঙলেন তার পরেই নিখুঁত শটে আইজলের জাল কাঁপালেন বহু যুদ্ধের সৈনিক। বল আইজলের জালে জড়াতেই সেই পরিচিত ভঙ্গিতে দৌড়তে শুরু করে দিলেন সনি। হাত দুটো ছড়িয়ে পাখির মতো উড়লেন। তিনি উড়তেই মোহনবাগানও রং ছড়াল। সনির ওরকম গোলের পরেও আইজল যে ম্যাচে ফিরে আসবে তা মনে হয় অতি বড় আইজল ভক্তও করেননি। যাই হোক, এটাই তো ফুটবল। তাই খেলার একেবারে শেষ লগ্নে ডেভিডের মারা ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে বাগানের জালে। তখনই সবুজ-মেরুনের জেতার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।

জয় এখনও অধরা মোহনবাগানের

সনির মাঠে নামার ব্রাহ্মমুহূর্তটাও তো ছিল নাটকীয়তায় মোড়া। ওমর নাবিলকে তুলে নিলেন মোহন-কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। মাঠে পাঠালেন সনিকে। তিনি মাঠের ভিতরে ঢুকতেই দর্শকদের শব্দব্রহ্মে কেঁপে গেল যুবভারতী। কিংসলে এগিয়ে এসে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরিয়ে দিলেন হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ানকে। আইজলের ক্রোমা এগিয়ে গিয়ে সনিকে অভিনন্দন জানালেন। মহানায়ককে বরণ করে নিলেন সবাই। তার পরেই স্বমহিমায় সনি। তাঁর বল ধরা, বল ছাড়া, হঠাৎ গতি বাড়ানো দেখে কে বলবে তিনি চোট সারিয়ে ফিরছেন। এমন প্রত্যাবর্তন তো খুব একটা দেখা যায় না। চোট সারিয়ে ফিরেই গোল। সেই সঙ্গে ম্যাচের সেরা। সনি মানেই চমক।

সনি নিজেকে প্রমাণ করে দিলেন শনিবারের যুবভারতীতে। সেই সঙ্গে নিন্দুকদের মুখও বন্ধ করে নিলেন। তিনি তৈরি যুদ্ধের জন্য। 
ইস্টবেঙ্গল দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচেই জয় পেয়েছে। সেখানে মোহনবাগানে জয় অধরা। যদিও সনিদের খেলাতে আলোর রোশনাই। দিপান্দা দিকা ও হেনরি কিসেক্কার জুটি বারবার আইজল রক্ষণে কাঁপনি ধরিয়ে দিচ্ছিল। খেলার গতির বিপরীতেই এগিয়ে যায় আইজল। ২৯ মিনিটে পুইমাওয়াইয়ার শট আছড়ে পড়ে বাগানের জালে। গোলকিপার শঙ্কর রায় বুঝতেই পারেননি। বিরতির ঠিক আগে ম্যাচে ফিরে আসে মোহনবাগান। কিমা ঠান্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান। খেলার শেষ লগ্নে ডেভিডের মিসাইল। শঙ্কর শরীর ছুড়েও বলের নাগাল পাননি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *